চীনের কাছাকাছি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে জাপান

টোকিও, ৯ মার্চ – মার্চ মাসের শেষের দিকে চীনের কাছাকাছি অবস্থিত দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে দূরপাল্লার পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম এমন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে যাচ্ছে জাপান।
সোমবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র মিনোরু কিহারা একটি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে গ্রাউন্ড সেলফ ডিফেন্স ফোর্স কিউশু অঞ্চলের কুমামোতোতে টাইপ ১২ ভূমি থেকে জাহাজে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এই আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বলে জানা গেছে। তিনি আরও জানান যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে। পূর্ব চীন সাগরে চীনের নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান তৎপরতার কারণে জাপান নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশটি এমন একটি পাল্টা আঘাত সক্ষমতা গড়ে তুলতে আগ্রহী যার মাধ্যমে সরাসরি আক্রমণের শিকার হলে শত্রুর সামরিক ঘাঁটিতে দ্রুত আঘাত হানা সম্ভব হয়। গত নভেম্বরে জাপানের প্রভাবশালী নেতা সানায়ে তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে স্বশাসিত তাইওয়ানের ওপর কোনো ধরনের সামরিক আক্রমণ হলে টোকিও সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এই মন্তব্যের পর থেকেই মূলত জাপান ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে। অন্যদিকে চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনে সেখানে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাকেও তারা কখনও নাকচ করেনি। সানায়ে তাকাইচির ওই মন্তব্যের পর থেকে বেইজিং টোকিওর ওপর নানামুখী অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ শুরু করে এবং চীনা নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করতে থাকে।
এদিকে জাপানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে স্থানীয় জনগণকে আগে থেকে কোনো কিছু না জানিয়েই রাতের অন্ধকারে কুমামোতোতে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের একটি লঞ্চার পৌঁছে দিয়েছে জাপানের স্থলবাহিনী। আকস্মিক এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে স্থানীয় একটি সামরিক ঘাঁটির সামনে জড়ো হয়ে কয়েক ডজন মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
সমালোচকদের মতে এই অঞ্চলে এমন বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হলে তা ভবিষ্যৎ সংঘাতে এলাকাটিকে সম্ভাব্য শত্রু হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।
এম ম/ ৯ মার্চ ২০২৬









