সংবাদমাধ্যমের ওপর ইসরায়েলের কঠোর নিয়ন্ত্রণ, তথ্য গোপনের অভিযোগ

তেল আবিব, ৯ মার্চ – ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি দেশটি সফর করে ফেরা ভারতীয় সাংবাদিক ব্রজমোহন সিং দাবি করেছেন, চলমান যুদ্ধে হতাহত এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সংবাদমাধ্যম দ্য কারেন্ট এবং প্রেস টিভির প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
এর ফলে ঘটনাস্থল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে ব্রজমোহন সিং জানান, অনেক ক্ষেত্রে সাইরেন বাজার আগেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে। সরকার যেসব বাঙ্কার ও আশ্রয়কেন্দ্রকে নিরাপদ বলে দাবি করেছিল, সেগুলোর ভেতরেও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন রাখতে হাসপাতালগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। তার মতে, ইসরায়েল সরকার অনেক তথ্যই প্রকাশ করছে না। যেসব হাসপাতালে মৃতদেহ রয়েছে, সেখানে সাংবাদিকদের যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
এমনকি কোনো ঘটনা ঘটলেও অনেক সময় জানা যায় না সেটি ঠিক কোথায় ঘটেছে। ব্রজমোহন সিংয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ইরানি হামলার ফলে হওয়া ধ্বংসযজ্ঞের ছবি বা ভিডিও ধারণ করতেও সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমের কভারেজ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এটিকে ইসরায়েলের সামরিক সেন্সরশিপের একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ বা মন্তব্য করেনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এরপর থেকেই এই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এস এম/ ৯ মার্চ ২০২৬









