ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি: আপসহীন অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা

তেহরান, ৯ মার্চ – ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নির্বাচনকে বড় ধরনের রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সংঘাতপূর্ণ এই সময়ে তেহরান এমন একজন নেতাকে সামনে নিয়ে এসেছে, যিনি আপসের পরিবর্তে কঠোর অবস্থানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। রয়টার্সের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলে মোজতবাকে দায়িত্ব দেওয়া ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
অনেক আঞ্চলিক কর্মকর্তার ধারণা, এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা। এর আগে ট্রাম্প মোজতবাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পরপরই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো অ্যালেক্স ভাতানকা জানান, এত বড় ঝুঁকি নিয়ে একজন শীর্ষ নেতাকে হত্যার পর যদি তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তারই ছেলেকে দেখা যায়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা।
ইরানের ক্ষমতা কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতার হাতেই পররাষ্ট্রনীতি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক কৌশলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকে। তাই মোজতবা খামেনির উত্থানকে অনেকেই ইরানের ভবিষ্যৎ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ায় নতুন নেতা আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন। তেহরানের ঘনিষ্ঠ এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নেতৃত্ব সহজে আপসের পথে হাঁটবে না।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের পল সালেম মনে করেন, এখনকার পরিস্থিতি এমন যে নেতৃত্বে যারা আসছেন তাদের জন্য আপস করা বেশ কঠিন। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক এবং ইরান বিশেষজ্ঞ অ্যালান আয়ারের মতে, মোজতবা খামেনি রেভল্যুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসির কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য একটি নাম এবং তার নেতৃত্বে প্রতিরোধের অবস্থান আরও জোরালো হতে পারে। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরে আইআরজিসি এবং শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। আনুষ্ঠানিক কোনো সরকারি পদে না থাকলেও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের এই সময়ে তাকে সামনে আনার অর্থ হলো ইরান তীব্র চাপের মুখেও পিছু হটবে না।
এস এম/ ৯ মার্চ ২০২৬









