মধ্যপ্রাচ্য

ইরানকে ভেঙে টুকরো করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের: অধ্যাপক ইজাদি

তেহরান, ৮ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর হামলায় টানা নবম দিনের মতো ইরানজুড়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। এই হামলার প্রতিশোধে ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ও ইসরায়েলি স্বার্থে পাল্টা হামলা করছে ইরান। ইরানে হামলা শুরুর আগে কয়েক মাস ধরে ইরানবিরোধী প্রচার চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে প্রকাশ্যে উসকানি দিয়েছিল ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। যদিও ব্যাপক বলপ্রয়োগ করে ওই আন্দোলন দমন করে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। এরপর অনেকটা আকস্মিকভাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী।

ইরানে এই যৌথ হামলার নেপথ্যে কী কেবল ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর পতন নাকি সার্বভৌম ইরানকে ভেঙে টুকরো টুকরো করার লক্ষ্য রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেছেন যে ইরানকে ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন আগে এক বক্তৃতায় যুদ্ধ শেষে ইরানের মানচিত্র আগের মতো থাকবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের সেই বক্তৃতার প্রতি ইঙ্গিত করে অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি বলেন এতে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে বলকানিজ বা ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করছে।

পারস্য উপসাগরের উত্তর দিকে অবস্থিত ইরানের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ইজাদি। তিনি বলেন ট্রাম্প ইরানের তেলসমৃদ্ধ অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে আগ্রহী এবং তিনি সম্ভবত তেলসমৃদ্ধ এই অঞ্চলগুলোর দায়িত্বে নিজের পছন্দের কাউকে বসাবেন। ইরানের বাকি অংশের প্রতি তার তেমন কোনো আগ্রহ থাকবে না বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। তাঁর মতে ইরানের অন্য অংশগুলো হয়তো প্রতিবেশী দেশগুলোর দখলে চলে যেতে পারে অথবা তেল না থাকলে সেগুলো অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক আরও বলেন ট্রাম্প তেল পছন্দ করেন যেমন তিনি ভেনেজুয়েলার তেল পছন্দ করেন ঠিক তেমনি ইরানের তেলও পছন্দ করেন। আর এ জন্য তার এমন এক সরকার প্রয়োজন যা অকার্যকর এবং নেতৃত্বহীন। তারা সম্ভবত ইরানের প্রেসিডেন্টকেও হত্যা করতে চাইবে যার ফলে ইরানি সরকারের পতন ঘটবে এবং দেশটির মানচিত্র বদলে যাবে।

এনএন/ ৮ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language