চুয়াডাঙ্গায় পটকা বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণ: ৩ শিশু আহত, একজনের হাতের আঙুল বিচ্ছিন্ন

চুয়াডাঙ্গা, ৮ মার্চ – চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া এলাকায় দিয়াশলাইয়ের বারুদ দিয়ে পটকা তৈরির সময় বিস্ফোরণে তিন শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।
এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের বাম হাতের কব্জি থেকে পাঁচটি আঙুলই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভাংবাড়িয়া মিলপাড়ার একটি নির্মাণাধীন মসজিদের ছাদে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলো জাকির হোসেনের ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রনক, উজ্জ্বলের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র হোসাইন এবং আমদের ছেলে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র লাল মিয়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে শিশুরা খেলার ছলে দিয়াশলাইয়ের কাঠি থেকে বারুদ সংগ্রহ করে দেশীয় পদ্ধতিতে পটকা তৈরি করছিল।
এটি তৈরির একপর্যায়ে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে তারা সবাই রক্তাক্ত জখম হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় রনকের বাম হাতের কব্জি থেকে পাঁচটি আঙুলই শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা শব্দ শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
রনকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বানী ইসরাঈল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তিনি ঘটনার ভয়াবহতা দেখে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন। ওসি জানান শিশুরা কৌতূহলবশত ইউটিউব বা বড়দের দেখে এসব বিপজ্জনক কাজে লিপ্ত হচ্ছে।
দিয়াশলাইয়ের বারুদ বা দেশীয় বাজি যে কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে এই ঘটনাই তার প্রমাণ। অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে এবং কী নিয়ে খেলছে সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা।
এম ম/ ৮ মার্চ ২০২৬









