নেপালে ব্যালট গণনায় চমক, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে র্যাপার বালেন্দ্র শাহ

কাঠমান্ডু, ৭ মার্চ – নেপালে সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা এখনো চলছে এবং প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন র্যাপার থেকে রাজনীতিতে আসা বালেন্দ্র শাহ। ভোটের এই প্রবণতা তাকে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন নেপালের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে, যাদের মধ্যে রয়েছেন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল) নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং নেপালি কংগ্রেসের গগন থাপা। নির্বাচনের আগে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত বালেন্দ্র শাহ রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শনিবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া ভোটের তথ্যে দেখা গেছে, বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বা আরএসপি সরাসরি নির্বাচিত ১৬৫টি আসনের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ভোটের মাঠে নেপালি কংগ্রেস দ্বিতীয় এবং ইউএমএল তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
ভৌগোলিক কারণে নেপালে ভোট গণনা প্রক্রিয়া ঐতিহ্যগতভাবে ধীরগতির হয় এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে ব্যালট বাক্স সংগ্রহ করতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে। ফলে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জানতে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। এর আগে ২০২২ সালের নির্বাচনেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশে দুই সপ্তাহের বেশি সময় লেগেছিল।
৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ স্থানীয়ভাবে বালেন নামে পরিচিত এবং পেশায় একজন কাঠামোগত প্রকৌশলী। তিনি নেপালের হিপহপ অঙ্গনের একজন সক্রিয় সদস্য এবং তার গাওয়া গানগুলো সামাজিক বার্তাধর্মী। গত বছর দেশটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে দুর্নীতি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয় এবং সেই সময় তরুণদের মাঝে বালেন্দ্র শাহের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলির কড়া সমালোচক এবং তাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
যদিও দেশ পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা নিয়ে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে মেয়র থাকাকালে ফুটপাতের হকার উচ্ছেদে পুলিশি কঠোরতা ব্যবহারের কারণে তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
এবারের নির্বাচনে তিনি কেপি ওলির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝাপা ৫ আসন থেকে লড়ছেন এবং ভোট গণনায় সেখানেও তিনি এগিয়ে আছেন। নেপালের তরুণ ভোটাররা মনে করছেন, দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙতে বালেন্দ্র শাহের মতো নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন। তিনি নির্বাচিত হলে তা নেপালের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এনএন/ ৭ মার্চ ২০২৬









