১৭ বছর পর দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমিটির সভা, চিকিৎসকদের সুবিধাসহ সেবার মানোন্নয়নে জোর

কুমিল্লা-৪, ৬ মার্চ – তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত জনবলের সংকট রয়েছে এবং এসব সমস্যা সমাধানে তারা কাজ করছেন। শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং স্বাস্থ্য কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটির এই সভা অনুষ্ঠিত হলো যা সর্বশেষ ২০০৯ সালে হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম সভা এবং এখন থেকে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এই সভা নিয়মিত করার ঘোষণা দেন তিনি। হাসনাত আবদুল্লাহ জানান হাসপাতালে কিছু অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে যা উত্তরণে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে ইসিজি মেশিন ও ডিজিটাল এক্স-রের মতো যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে হাসপাতালে চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে একটি মুখোমুখি অবস্থান বিরাজ করছে এবং চিকিৎসকদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। হাসপাতালটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও প্রতিদিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন এবং বহির্বিভাগে গড়ে এক হাজার রোগী সেবা নেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন চিকিৎসকদের জোর করে সেবা আদায় করা সম্ভব নয় বরং তাদের পেশাদারিত্বের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
তিনি স্বীকার করেন যে হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য পর্যাপ্ত বাথরুম বা আবাসিক সুবিধা নেই এবং একজন চিকিৎসককে প্রতিদিন ২০০ এর বেশি রোগী দেখতে হয় যা অত্যন্ত কঠিন। হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট নিয়েও আলোচনা হয় যেখানে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল অত্যন্ত নগণ্য। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সময়মতো উপস্থিত না থাকা এবং প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান যে চিকিৎসকরা সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থানের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
একইসঙ্গে রোগীদের সেবার মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের পেশাগত সুযোগ সুবিধা দেখার আশ্বাস দেন তিনি। আগামী রবিবার দুজন নতুন চিকিৎসক যোগদান করবেন এবং ২০২৯ সালের মধ্যে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের চারতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মহিবুস ছালাম খানসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
এম ম/ ৬ মার্চ ২০২৬









