জাতীয়

সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুদকে এক ডজন অভিযোগ, চলছে যাচাই

ঢাকা, ৬ মার্চ – সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে মামলা ও জামিন বাণিজ্য, বিচারক নিয়োগে অনিয়ম, অর্থপাচার এবং অন্যান্য দুর্নীতিসহ এক ডজনেরও বেশি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব অনিয়মের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানে দুদক এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে সাবেক এই উপদেষ্টা নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

এ বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানান, দুদকে যেকোনো অভিযোগ এলে তা প্রথমে যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে দেখা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ১০০ নম্বরের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় এবং কোনো অভিযোগ ৮০ নম্বর পেলে তা পরবর্তী অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং অনুসন্ধানযোগ্য হলে অবশ্যই তদন্ত করা হবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেন যে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগের সত্যতা মিললে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথা বলেন তিনি। দুদকে জমা পড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আসিফ নজরুল জামিন বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে একটি শিল্প গ্রুপের সিইও জালিয়াতির মাধ্যমে ভাই ও বোনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার ঘটনায় পিবিআই তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পরও ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে ওই ভিআইপি আসামিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গান বাংলা টেলিভিশনের তাপসের জামিনেও বিপুল অঙ্কের লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিচারক বদলিতে তিনি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত নিতেন। সাব-রেজিস্ট্রার বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমেও অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। এদিকে গত বুধবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন। আমেরিকায় বাড়ি কেনা ও পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সরকারে থাকা অবস্থায় বা জীবনের অন্য কোনো সময়ে তিনি এক টাকাও দুর্নীতি করেননি এবং কাউকে করতেও দেননি। তিনি দাবি করেন, তাঁর কোনো নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা সম্পদ নেই এবং তিনি কোনো স্বজনপ্রীতি করেননি। প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিলেও কোনো আত্মীয়কে নিয়োগ দেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি এলাকাপ্রীতি করেননি দাবি করে বলেন, কেবল লালবাগ শাহী মসজিদের উন্নয়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উন্নয়নে নিয়ম মেনে সহযোগিতা করেছেন। এর বাইরে কারো জন্য অনুদানের অনুরোধও করেননি বলে জানান তিনি।

এস এম/ ৬ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language