খামেনির মৃত্যুতে শোকাহত ইরান ভূ-রাজনীতি ও নেতৃত্বের পালাবদলের শঙ্কা

তেহরান, ৫ মার্চ – ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুতে দেশটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে মুসলিম সম্প্রদায় ও বিশ্বের স্বাধীন জনগণের সমর্থন নিয়ে ইরান এই সংকট মোকাবিলা করবে। ৩৭ বছর ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির নেতৃত্ব দেওয়া ৮৬ বছর বয়সী খামেনির প্রয়াণ দেশটির জন্য এক কঠিন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। পাকিস্তান ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর ব্যাপক সমর্থন ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহ ও হুথি বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে এলেও গত দুই বছরে মার্কিন ও ইসরায়েলি অভিযানে তাদের শক্তি খর্ব হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কামরান বুখারী মনে করেন খামেনির মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হতে পারে। তবে পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস ও কুদস ফোর্সের সক্ষমতার ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে খামেনির মৃত্যু ইরানের প্রশাসনকে পুরোপুরি স্থবির না করলেও আগের অবস্থায় ফেরা কঠিন হবে। অসুস্থতার কারণে শেষ সময়ে রেভলিউশনারি গার্ডস ও সেনাবাহিনীর ওপর খামেনির নির্ভরতা বেড়েছিল। তাঁর মৃত্যুর পর রেভলিউশনারি গার্ডসের শক্তিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রশাসনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই ইরানে নতুন ধরনের প্রশাসন দেখার আশা প্রকাশ করেছিলেন।
খামেনি জীবিত থাকা অবস্থায় আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির সুযোগ সীমিত ছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষক সিমিওন উলফগ্যাং ফুচস। নতুন সর্বোচ্চ নেতার অধীনে পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে বিশ্লেষক ফিলিপ স্মিথ মনে করেন ইরানের ওয়ালিয়াত ই ফাকিহ বা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থার ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান এই মতাদর্শ ব্যবহার করে দেশের বাইরেও রাজনৈতিক লক্ষ্য হাসিল করেছে। যদিও ধর্মীয় মর্যাদার দিক থেকে খামেনি ইরাকের আলী আল সিস্তানির সমকক্ষ ছিলেন না তবুও তাঁর মৃত্যু সমর্থকদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। পাকিস্তান বা লেবাননের সমর্থকদের কাছে তিনি শক্তি ও গর্বের প্রতীক হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
এম ম/ ৫ মার্চ ২০২৬









