মধ্যপ্রাচ্য

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডুমসডে’ মিসাইল পরীক্ষা

তেহরান, ৫ মার্চ – ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল মিনিটম্যান ৩ এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে ৩ মার্চ এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয় যা পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এবং ডুমসডে বা কেয়ামতের ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে পরিচিত। মার্কিন বিমানবাহিনীর গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড জানিয়েছে যে এই পরীক্ষাটি সমসাময়িক কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়া নয় বরং বহু বছর আগেই এটি পূর্বনির্ধারিত ছিল।

ডেটা চালিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অস্ত্র ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করতে ৩০০টিরও বেশি পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় এই উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষামূলক এই যাত্রায় ক্ষেপণাস্ত্রটির রিয়েন্ট্রি ভেহিকেলগুলো হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মার্শাল আইল্যান্ডের কোয়াজালিন অ্যাটলে অবস্থিত একটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। মিনিটম্যান ৩ হলো আমেরিকার একমাত্র ভূমিভিত্তিক এবং সিলো চালিত পারমাণবিক ব্যালিস্টিক মিসাইল যার পাল্লা প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার।

বিশেষজ্ঞদের মতে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি একই সঙ্গে তিনটি ভিন্নমুখী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির কারণে এটি একটি মাত্র ওয়ারহেড বহন করে। একে ডুমসডে মিসাইল বলার মূল কারণ হলো এর একবার ব্যবহার সারা বিশ্বে এমন তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে দিতে পারে যা পৃথিবীকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলবে। মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই এই মিসাইল পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর সংঘাত ভয়াবহ রূপ ধারণ করে এবং এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।

এস এম/ ৫ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language