ক্রিকেট

সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত দক্ষিণ আফ্রিকা আবারও সেই ‘চোকার্স’ অপবাদ

আদিস আবাবা, ৫ মার্চ – অপরাজিত দল হিসেবে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে পা রেখেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে এবং লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের ‘চোকার্স’ অপবাদ মুছে ফেলা।

তবে শেষ পর্যন্ত সেই পুরনো হতাশাই তাদের সঙ্গী হলো এবং সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়তে পারেনি প্রোটিয়ারা। কিউইরা ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ফাইনালে জায়গা করে নেয় যা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক বিদায়।

ম্যাচ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ শুকরি কনরাড দলের এই পরাজয় এবং ‘চোকার্স’ তকমা নিয়ে কিছুটা রসিকতা করেই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন যে এটাকে ঠিক চোক বলা যায় কি না তা তিনি জানেন না বরং তার কাছে মনে হয়েছে এটি একটি বড় ধরনের পরাজয়। তবে ছেলেদের নিয়ে তিনি গর্বিত কারণ দেশ ছাড়ার সময় খুব কম মানুষই ভেবেছিল তারা সেমিফাইনালে উঠতে পারবে যদিও এটি কোনো সান্ত্বনা হতে পারে না।

আইসিসি টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার নামের সঙ্গে ‘চোকার্স’ শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। ১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পর থেকে তারা প্রায় সব বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি।

১৯৯২ সালের পর থেকে আইসিসির ২১টি নকআউট ম্যাচের মধ্যে ১৫টিতেই হারের স্বাদ পেয়েছে তারা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ছিল তাদের জন্য সবচেয়ে নাটকীয় ও বেদনাদায়ক মুহূর্তগুলোর একটি যেখানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের খুব কাছে গিয়েও ভুল বোঝাবুঝিতে ম্যাচটি টাই হয়।

এ ছাড়া ১৯৯২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল এবং ১৯৯৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হারের স্মৃতি রয়েছে। ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে হারগুলোও এই ব্যর্থতার তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে জয়ের জন্য তখন দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল মাত্র ২৬ রান এবং হাতে ছিল ২৪ বল কিন্তু হেনরিখ ক্লাসেনের ঝড়ো ইনিংসে জয়ের পথে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৭ রানে হেরে যায় তারা।

২০২৫ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে দীর্ঘদিনের আইসিসি ট্রফি খরা কাটালেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার ভাগ্য যেন বদলাচ্ছে না এবং শিরোপার খুব কাছে গিয়েও সাফল্য অধরাই থেকে যাচ্ছে।

এম ম/ ৫ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language