ইসরায়েলে ইরানের ১৯তম দফার ভয়াবহ হামলা, হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি

জেরুজালেম, ৫ মার্চ – বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ১৯তম দফার ব্যাপক আক্রমণ পরিচালনা করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে চালানো এই যৌথ হামলায় মধ্য ইসরায়েল এবং অধিকৃত আল-কুদসসহ বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, এই সামরিক অভিযানে ইরান উন্নত প্রযুক্তির হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
এছাড়া কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ক্লাস্টার বোমা বা গুচ্ছ গোলাবারুদে সজ্জিত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলা শুরুর পরপরই পুরো অঞ্চলজুড়ে শত শত সাইরেন বাজতে থাকে এবং আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে শুরু করেন। ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ডের তথ্যমতে, গুশ দান এলাকাসহ প্রায় ১৯৪টি বসতিতে একযোগে বিপদ সংকেত জারি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা তেল আবিব এবং মধ্য ইসরায়েলে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে এই অভিযানে ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিছু অসমর্থিত সূত্রে মার্কিন সেনাদের হতাহত হওয়ার দাবিও উঠেছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এর আগে ১৮তম দফার হামলায় তারা ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ও বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের মতো কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে সফল আঘাত হেনেছে।
ওই অভিযানে অন্তত সাতটি উন্নত রাডার সিস্টেম ধ্বংসের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজরদারি ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে তেহরান। গত ১০০ ঘণ্টা ধরে অধিকৃত অঞ্চলে সাইরেন এবং বাসিন্দাদের ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে অবস্থানকে ইরান তাদের ‘কঠোর প্রতিশোধের’ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বর্তমানে বেনি ব্রাকসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের চেষ্টা এবং উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এস এম/ ৫ মার্চ ২০২৬









