ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান রাষ্ট্রদূত

ঢাকা, ৪ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে আলোচনার মাঝপথেই হামলা চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি।

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ইরান আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও প্রতিপক্ষ যুদ্ধ চাইলে তারাও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। বুধবার গুলশানে নিজের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত জানান যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কোনো গোপন অবস্থায় ছিলেন না বরং যুদ্ধের হুমকির মধ্যেও রোজা রেখে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি তার পরিবার ও জনগণের পাশেই ছিলেন এবং চরম পরিস্থিতির মধ্যেও তাদের ছেড়ে যাননি। রাষ্ট্রদূত পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপ্রধান রেজা শাহর প্রসঙ্গ টেনে বলেন যে একমাত্র তিনিই দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। ইরানে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান যে প্রেসিডেন্ট ও বিচার বিভাগের প্রধানদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এক্সপার্ট কাউন্সিল ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

বাংলাদেশের সরকার, রাজনৈতিক দল ও জনগণের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন যে বাংলাদেশ সরকার বিবৃতির মাধ্যমে সমর্থন জানিয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরাসরি যোগাযোগ করে শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত মিছিল ও সভার ছবি দেখে ইরানের জনগণ আনন্দিত হয়েছে। পারমাণবিক শক্তি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে আন্তর্জাতিক আইন ও এনপিটি মেনেই ইরান শক্তি সমৃদ্ধ করেছে যা তাদের অধিকার।

তিনি অভিযোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চায় না ইরানের কোনো প্রতিরক্ষা শক্তি থাকুক। গাজা ও মিনার একটি স্কুলে মার্কিন হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় পশ্চিমা গণমাধ্যমের নীরবতারও সমালোচনা করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রাষ্ট্রদূত বলেন যে বাহরাইন বা সৌদি আরবের মতো দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে ব্যবহৃত হলে সেগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি দাবি করেন যে ইমাম খামেনির মৃত্যুর পর দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি বরং অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে।

চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা থাকলেও কোনো যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই বলে তিনি জানান। ইরাক থেকে সিরিয়ায় আইএসের স্থানান্তর এবং কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি। ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন যে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার দূতাবাসে বিশেষ শোক বই খোলা থাকবে।

এম ম/ ৪ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language