মধ্যপ্রাচ্য

কুয়েতে ৩টি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত: ফ্রেন্ডলি ফায়ার নাকি ইরানের হামলা?

কুয়েত সিটি, ৪ মার্চ – কুয়েতে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সামরিক অঙ্গনে ব্যাপক রহস্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের ভুলবশত গুলিবর্ষণের ফল হিসেবে দাবি করা হলেও এই ব্যাখ্যার পেছনে একাধিক প্রযুক্তিগত অসংগতি ধরা পড়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য গত সোমবার ছিল অন্যতম ভয়াবহ দিন। বিমানের ছয়জন ক্রু সদস্য নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও এই ধ্বংসযজ্ঞের নেপথ্যে প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।

পেন্টাগনের দাপ্তরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলেই বিমানগুলো ভূপাতিত হয়েছে। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে এই দাবির সঙ্গে বাস্তবচিত্রের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বিমানগুলোর ইঞ্জিনে আঘাত করা হয়েছে যা সাধারণত তাপ-অনুসন্ধানী বা হিট-সিকিং মিসাইলের কাজ। অথচ কুয়েতের হাতে থাকা প্যাট্রিয়ট কিংবা নাসামসের মতো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো রাডার-গাইডেড মিসাইল ব্যবহার করে। প্যাট্রিয়ট মিসাইলের আঘাত থেকে কোনো পাইলটের বেঁচে ফেরার নজির এর আগে দেখা যায়নি কিন্তু এই ঘটনায় সকল ক্রু অক্ষত থাকায় বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।

অপরদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে মার্কিন দাবির সরাসরি সমর্থন দেয়নি। তারা জানিয়েছে সেই সময় আকাশে বেশ কিছু শত্রু লক্ষ্যবস্তু উপস্থিত ছিল এবং বেশ কয়েকটি মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। কুয়েতিদের এই অবস্থান মার্কিন সেন্টকমের ফ্রেন্ডলি ফায়ার তত্ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক। একই সময়ে ওই অঞ্চলে ইরানি যুদ্ধবিমানের উপস্থিতির কথা মার্কিন প্রশাসন স্বীকার করেছে যা এই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে যে বিমানগুলো আসলে কোনো বিদেশি শক্তির হামলার শিকার হয়েছে কি না।

ইরান ইতিমধ্যেই এই ঘটনার দায় স্বীকার করে একটি বিবৃতি প্রদান করেছে। তেহরানে অবস্থিত খাতাম আল-আম্বিয়া এয়ার ডিফেন্স বেস দাবি করেছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি অনুপ্রবেশকারী মার্কিন এফ-১৫ বিমানকে সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। যদিও তারা একটি বিমানের কথা উল্লেখ করেছে কিন্তু তিনটি বিমান একই দিনে হারানো মার্কিন সামরিক শক্তির জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা ইরানের হাতে থাকা স্বল্প পাল্লার আর-৭৩ বা আর-৭৪ এর মতো হিট-সিকিং মিসাইল দিয়ে এই আক্রমণ চালানো হয়ে থাকতে পারে যা বিধ্বস্ত বিমানের ইঞ্জিনের জখমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এস এম/ ৪ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language