নড়াইল

নকশা জটিলতায় আট বছরেও শেষ হয়নি বারইপাড়া সেতু, ব্যয় বাড়ল ৭১ কোটি টাকা

নড়াইল, ৪ মার্চ – নকশা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বারইপাড়া সেতুর নির্মাণ ব্যয় ৭১ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকল্পটি মাত্র দেড় বছরে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও গত আট বছরেও তা শেষ করা সম্ভব হয়নি।

নকশা ত্রুটির কারণে ৬৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে বর্তমানে ১৩৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী নড়াইল সদর ও কালিয়া উপজেলাসহ আশেপাশের তিনটি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

দীর্ঘ আট বছর ধরে কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পরও সেতুর কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে এবং সর্বশেষ সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের এই পিসি গার্ডার সেতুটির মূল চুক্তিমূল্য ছিল ৬৫ কোটি টাকা। তবে নকশা জটিলতা ও সময় বৃদ্ধির ফলে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়। শুরুতে মেসার্স জামিল ইকবাল অ্যান্ড মঈনুদ্দিনবাসী কনস্ট্রাকশন কম্পানি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৬১ কোটি টাকার কাজ করার পর চুক্তি শেষ হয়ে যায়।

এরপর দ্বিতীয় মেয়াদে কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিস্ট লিমিটেড নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান বাকি অংশের কাজ পায়। নির্মাণ কাজ চলাকালীন বাল্কহেডের ধাক্কায় ৯ নম্বর পিলারটি দুইবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় যা কাজের গতি আরও কমিয়ে দেয়।

বর্তমানে মূল অংশের ৪টি পায়ার ও ৩টি স্প্যান বসানোর কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই নতুন করে কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ খান লিটন জানিয়েছেন বিদেশ থেকে স্টিল স্প্যান আমদানিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে তবে চলতি মাসের মধ্যে দুটি স্প্যান বসানো সম্পন্ন হবে। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও পার্শ্ববর্তী তিন জেলার লক্ষাধিক মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক মিঠু ঘোষ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান সেতুটি দ্রুত নির্মাণ করা হলে জনগণের দুর্কোগ কমবে। জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতুটির কাজ এখন পূর্ণ উদ্যমে চলছে এবং আগামী ৩০ জুন ২০২৬ সালের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে কাজটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এম ম/ ৪ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language