জাতীয়

এলপি গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা, এলসি জটিলতায় চরম ভোগান্তিতে ভোক্তারা

ঢাকা, ৪ মার্চ – দেশের এলপি গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা কোনোভাবেই কাটছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ডিলারদের অভিযোগ, সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের মেয়াদে এলসি বা ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি এবং বৈষম্যমূলক অনুমোদনের কারণে আমদানি প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে সৃষ্ট সরবরাহ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব এখনো বাজারে বিদ্যমান রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ওই সময়ে পছন্দের গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানকে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়া হলেও অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের আবেদন আটকে রাখা হয়।

এতে বাজার নির্দিষ্ট কিছু আমদানিকারকের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। চাহিদা অনুযায়ী আমদানি না হওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ভোক্তাদের প্রতিটি সিলিন্ডারের জন্য অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় এই দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর আমদানিকারকদের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন।

সেখানে ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক এলসি খোলার অনুমতি দিলে আমদানি দ্রুত বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে নির্ধারিত দামেই গ্যাস বিক্রি করা যাবে। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, এলসি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউনিটেক্স এলপি গ্যাস লিমিটেডের পরিচালক সাকিব আহমেদ জানান, দেশে এলপিজির চাহিদা বাড়ছে। ২০২৩ সালে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন আমদানি হলেও ২০২৪ সালে তা ১৬ লাখ ১০ হাজার টনে পৌঁছায়।

কিন্তু এলসি জটিলতায় সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসায় বাধ্য হয়ে অন্য কোম্পানি থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনে বাজারজাত করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বেক্সিমকো এলপি গ্যাসের মার্কেটিং প্রধান হাসানুল বারি জানান, ১০০ শতাংশ ঋণ মার্জিন আরোপের ফলে এলসি খোলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ বা লোয়াবের সহসভাপতি মোহাম্মদ হুমায়ুন রশিদ জানান, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে আমদানিতে ঘাটতি থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরও অনেক প্রতিষ্ঠান এলসি খুলতে না পারায় আমদানি ব্যাহত হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন প্রতি মাসে গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে থাকে এবং মার্চ মাসেও নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এস এম/ ৪ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language