মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় পতন, বাড়ছে তেলের দাম

তেহরান, ৪ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। এই উত্তেজনার প্রভাবে বুধবার টানা তৃতীয় দিনের মতো এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। এশিয়ার শেয়ারবাজারে দিনভর অস্থিরতা বিরাজ করেছে।

দিনের শুরুতেই দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রায় ৬ শতাংশ নিচে নেমে যায় এবং জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৩ শতাংশের বেশি হ্রাস পায়। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচকও ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। জ্বালানি তেলের বাজার গত দুই দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বুধবার সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আরও প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় পর তেলের দাম ৮০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে ব্যারেলপ্রতি ৮২ দশমিক শূন্য ১ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজে হামলার ঘটনায় আর্থিক খাতে এই অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক পঞ্চমাংশ ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়ে থাকে। কিন্তু জাহাজে নাশকতার হুমকির পর ওই পথে চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের তেলক্ষেত্রগুলোতে হামলা চালানোয় বিনিয়োগকারীদের মনে যুদ্ধের ব্যাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে। এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে প্রয়োজন হলে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজের সুরক্ষা দেবে মার্কিন নৌবাহিনী। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শিপিং কোম্পানিগুলোকে বিমা সুবিধা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এই ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কারণ এ ধরনের সংকটে পণ্য পরিবহন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এসএএস/ ৪ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language