যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা ও গ্রিনকার্ডের প্রসেসিং ফি বাড়ল

ওয়াশিংটন, ৪ মার্চ – মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান এবং দীর্ঘদিনের জমে থাকা ফাইলের জট কমানোর লক্ষ্যে এইচ-১বি ভিসা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিনকার্ড ইস্যুর ফি বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ (ইউএসসিআইএস)। ১ মার্চ থেকে এই নতুন ফি কাঠামো কার্যকর হয়েছে। প্রিমিয়াম প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে বর্ধিত ফি জমা না দিলে আবেদন সরাসরি ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইউএসসিআইএস তাদের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করেছে, ফি বৃদ্ধি মানেই ভিসা বা গ্রিনকার্ড অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিনকার্ড, এল-১ ভিসার (আই-১৪০) ফি ২৮০৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৯৬৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পারিবারিক কোটায় গ্রিনকার্ডের আবেদনের ফি অপরিবর্তিত রয়েছে।
ধর্মীয় ও মৌসুমি কৃষি কর্মী (এইচ-২বি এবং আর-১ ক্যাটাগরি) ভিসা প্রসেসিংয়ের ফি ১৬৮৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৭৮০ ডলার করা হয়েছে। এছাড়া ও-১, পি, কিউ, ই এবং টিএন (আই-১২৯) ওয়ার্ক ভিসার ফি ২৮০৫ ডলার থেকে বেড়ে ২৯৬৫ ডলার হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওয়ার্ক পারমিট ওপিটি এবং স্টেম ওপিটির ফি আগের মতোই ১৭৮০ ডলার থাকলেও এফজে এবং এম ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের স্ট্যাটাস পরিবর্তনের ফি বেড়ে ২০৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ১ মার্চের ডাক সিলমোহরযুক্ত কোনো আবেদনে যদি পুরনো বা ভুল ফি’র চেক পাওয়া যায়, তবে তা গ্রহণ না করে ফেরত দেওয়া হবে। এতে আবেদনকারীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী প্রতি দুই বছর অন্তর এই ফি পর্যালোচনার বিধান থাকায় ভবিষ্যতে খরচ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউইয়র্ক অঞ্চলের অভিবাসন আইনজীবী অশোক কর্মকার এ বিষয়ে বলেন, বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই বর্ধিত ফি নিয়োগকর্তা ও অভিবাসী কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তবে এর বিনিময়ে যদি কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফাইলের জট কমে এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে তা আবেদনকারীদের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে।
এস এম/ ৪ মার্চ ২০২৬









