ইরানে হামলার দায় নিজের কাঁধে নিলেন ট্রাম্প, নাকচ করলেন আলোচনার সম্ভাবনা

ওয়াশিংটন, ৪ মার্চ – ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যৌথ সামরিক অভিযান এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বহু মানুষকে হত্যার দায় সরাসরি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি দাবি করেছেন যে ইসরায়েল এই সংঘাতের উসকানি দেয়নি বরং তিনিই ইসরায়েলকে হামলার জন্য প্ররোচিত করেছেন।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছিলেন ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ এখন যুক্তরাষ্ট্র লড়ছে। তবে হোয়াইট হাউসে এক বক্তব্যে ট্রাম্প রুবিওর সেই বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে জানান যে আক্রমণের সিদ্ধান্তটি একান্তই তার ছিল।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প জানান তার কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে ইরান আগে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা করছিল এবং তিনি সেটা হতে দিতে চাননি বলেই আগাম পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন মার্কিন হামলায় ইরানের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্যমতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এক হাজার সাতশোর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং অভিযান শেষে ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামো কার্যত অচল হয়ে পড়বে।
ইরানের সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবাসে থাকা রেজা পাহলভিকে তিনি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত মনে করেন না। তার মতে ইরানের নেতৃত্ব দেশটির ভেতর থেকেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।
এছাড়া সংঘাত শুরুর পর তেহরান আলোচনার প্রস্তাব দিলেও এখন আর সেই সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন ট্রাম্প।
এদিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে এই যৌথ হামলা শুরু করে যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এনএন/ ৪ মার্চ ২০২৬









