পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও ৫ দফা দাবি

পার্বত্য চট্টগ্রাম, ৩ মার্চ – পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচিভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের জন্য নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবিতে অনতিবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সংলাপ আয়োজনের দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।
বক্তারা বলেন চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যেমন রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা রেখেছিলেন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সচল রাখতে বিচক্ষণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা। বিএনপি একত্রিশ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে বহুজাতির সম্প্রীতিমূলক সমন্বিত রাষ্ট্রসত্তা বা রেইনবো নেশন বিনির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাকে স্বাগত জানানো হয়।
সরকার ঘোষিত একশ আশি দিনের কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা নিরসনে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার দাবি জানান বক্তারা। তারা উল্লেখ করেন যে পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ী জনগোষ্ঠী ও সেটেলার বাঙালিদের মধ্যে একটি বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি বিদ্যমান।
সেই বিরোধকে টিকিয়ে রেখে পাহাড়কে অশান্ত করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই বলে জানান তারা। তাই এই এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার একমাত্র উদ্যোগ হিসেবে চুক্তিটি দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় পার্বত্য জেলা পরিষদে সর্বাধিক বিভাগ ও দপ্তর হস্তান্তর করা হয়েছিল। তারা আশা প্রকাশ করেন যে সরকার ঘোষিত অঙ্গীকার ও চুক্তির বিধানসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
এম ম/ ৩ মার্চ ২০২৬








