লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি

বৈরুত, ৩ মার্চ – লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সামরিক কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম। একইসঙ্গে গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সোমবার রাজধানী বৈরুতের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে আয়োজিত মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম নতুন নির্দেশনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে এখন থেকে লেবাননের সরকারি সেনাবাহিনী ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সব ধরনের সামরিক তৎপরতা নিষিদ্ধ থাকবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে যেকোনো সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য হবে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে যুদ্ধ ও শান্তি বিষয়ক যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার একমাত্র রাষ্ট্রের হাতেই ন্যস্ত থাকা উচিত।
প্রসঙ্গত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ ছয়টি শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে উত্তজনা সৃষ্টি হয়। এই সংঘাতের জেরে ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ১ মার্চ থেকে ইসরায়েলের দিকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শুরু করে হিজবুল্লাহ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এটিই ছিল হিজবুল্লাহর প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম হিজবুল্লাহর ওই হামলাকে দায়িত্বহীন আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় এবার সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল লেবানন সরকার।
এস এম/ ৩ মার্চ ২০২৬









