মধ্যপ্রাচ্য সংকট: হরমুজ প্রণালি ঘিরে এলএনজি ও জ্বালানি খাতে অস্থিরতার শঙ্কা

ঢাকা, ৩ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন বিঘ্নিত হলে দেশে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে, যা সরাসরি আঘাত হানবে শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ খাতে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে দৈনিক সরবরাহকৃত গ্যাসের একটি বড় অংশই আমদানিনির্ভর। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বিপরীতে এলএনজি থেকে যুক্ত হয় আরও ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে আসা এলএনজির প্রায় পুরোটাই হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানিয়েছেন, চলতি মাসে অন্তত ৯টি এলএনজি কার্গো মহেশখালীতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে মাসের মাঝামাঝি সময়ে নির্ধারিত ১-২টি কার্গো নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও জানান, স্পট মার্কেট থেকে আপাতত এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা না থাকলেও সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিকল্প উৎসের কথা ভাবা হতে পারে।
এদিকে দেশের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাত আগে থেকেই গ্যাস সংকটে ধুঁকছে। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, সিরামিক ও স্টিলসহ উৎপাদনমুখী শিল্পগুলোতে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা আশঙ্কা করছেন, আমদানিতে নতুন করে বিঘ্ন ঘটলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে ধস নামতে পারে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার সর্বাধিক হওয়ায় জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হলে লোডশেডিং বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অধিকাংশ সরবরাহ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলো (সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন) থেকে আসায় হরমুজ প্রণালির ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না। বিপিসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান জানান, আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা আছে এবং দেশে বর্তমানে ২০ দিনের বেশি মজুদ রয়েছে। তবে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির শঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেনের মতে, সংঘাত দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে গ্যাস ও জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
এস এম/ ৩ মার্চ ২০২৬









