মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি: ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহ

ঢাকা, ৩ মার্চ – বাংলাদেশের শ্রমবাজার মূলত মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর হলেও সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেখানে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের মোট অভিবাসীর ৬৭ শতাংশই সৌদি আরবে কর্মরত। এ ছাড়া কাতার, কুয়েত, আরব আমিরাত ও জর্দানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে প্রবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না।
এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২৫ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ৩২.৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে অবস্থানরত প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ইতিমধ্যে আরব আমিরাত ও বাহরাইনে বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং কুয়েত ও বাহরাইনে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা সীমিত বা বন্ধ থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত তিন দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, যুদ্ধ স্বল্পমেয়াদি হলে শ্রমবাজারে খুব বেশি প্রভাব না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদি হলে বড় সংকট তৈরি হবে। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে বিকল্প পরিকল্পনা ও প্রবাসীদের ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে জাপান বা ইউরোপের বাজারের উপযোগী দক্ষ কর্মী তৈরির দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। টিকিট রিইস্যু বা ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে। বিএমইটি সূত্র মতে, ২০২৫ সালে ১১ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, যার বড় অংশই সৌদি আরবে। তবে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ২০২৪ সালের জুন থেকে বন্ধ থাকায় এবং সিন্ডিকেটের প্রভাবে সেখানেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বায়রার যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসীরা চাকরি হারাতে পারেন, তাই সরকারের উচিত নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে মনোনিবেশ করা।
এস এম/ ৩ মার্চ ২০২৬









