বাগেরহাট

বাগেরহাটে ৮ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, কালো তালিকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান

বাগেরহাট, ২ মার্চ – বাগেরহাটের ফকিরহাটে ভৈরব নদীর ওপর নির্মীয়মাণ ফকিরহাট ও মূলঘর সংযোগ সেতুর কাজ দীর্ঘ ৮ বছরেও শেষ হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়ে কাঠের পুল ব্যবহার করে যাতায়াত করছে স্থানীয়রা।

ঢাকা ও খুলনা পুরাতন মহাসড়কের ওপর পাকিস্তান আমলের পুরনো বেইলি ব্রিজের স্থানে ২০১৮ সালে কংক্রিট সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায় মাহবুব ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একাধিকবার সময় বাড়িয়েও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে যে ফকিরহাট সদর ও মূলঘর ইউনিয়নের সংযোগকারী এই সেতুটি এলাকার হাজারো মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। সেতুর পাটাতনের কাজ কোনোভাবে শেষ হলেও এখনো রেলিং এবং সংযোগ সড়কসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে। এ অবস্থায় সেতুর এক পাশে অস্থায়ীভাবে কাঠের পুল বসিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয়রা।

এতে বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারলেও ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে সেতুর দুই পাশে কাঠের পুলটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে কোনো ধরনের সুরক্ষা বেষ্টনী নেই। কাঠের তক্তাগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু ব্যবহার করছে। সেতুসংলগ্ন মূলঘর ইউনিয়নের চরভৈরব গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ভ্যানচালকরা জানান মূলঘর থেকে ফকিরহাট সদরে সেতু দিয়ে সরাসরি দূরত্ব মাত্র ১১০ মিটার।

কিন্তু সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় এখন এক কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ব্যস্ততম বিশ্বরোড ব্যবহার করতে হয় যেখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন মূলঘর এলাকায় একাধিক সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

সেতুটি সচল না থাকায় শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে সেতুর কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম জানান ফকিরহাট ও মোল্লাহাট এলাকায় মোট ১০টি সেতুর কাজ পায় মাহবুব ব্রাদার্স।

২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার সময় বাড়িয়েও তারা ৫ থেকে ৬টি সেতুর আংশিক কাজ করেছে এবং বাকিগুলো সম্পন্ন করেনি। একাধিকবার নোটিশ দিয়েও কাজ আদায় সম্ভব না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং কয়েক কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান বর্তমানে নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শেষ করতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে যা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এম ম/ ২ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language