কুড়িগ্রাম

নাব্যতা সংকটে অচল রৌমারী-চিলমারী ফেরি, চরম ভোগান্তিতে উত্তরাঞ্চলের মানুষ

কুড়িগ্রাম, ২ মার্চ – দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদে রৌমারী ও চিলমারী ফেরি সার্ভিস চালু হলেও নাব্যতা সংকটের কারণে তা এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

গত বছরের ১৯ নভেম্বর থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী রমনা ঘাট দিয়ে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং রৌমারী প্রান্ত দিয়ে ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার যানবাহন এই রুট ব্যবহার করত।

ফেরি সচল থাকলে এই অঞ্চল থেকে ঢাকার দূরত্ব ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে যেত ফলে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় কম হতো। কিন্তু ফেরি চালুর আড়াই বছরের মধ্যেই নাব্যতা সংকটের কারণে একাধিকবার বন্ধ হয়েছে এই সেবা এবং সবশেষ গত বছরের ১৯ নভেম্বর থেকে ফেরি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এতে উত্তরাঞ্চলের প্রায় ২০টি জেলার যানবাহন ও সাধারণ মানুষের ঢাকায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং ট্রাকচালকদের দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হওয়ায় বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ভূরুঙ্গামারীর আন্তঃজেলা ট্রাকচালক ফ‌রিদ মিয়া জানিয়েছেন সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যেতে চিলমারী ফেরি রুটটি অনেক সুবিধাজনক ছিল। আরেক ট্রাকচালক হা‌মিদুল ইসলাম জানান ফেরি বন্ধ থাকায় তারা এখন বিড়ম্বনায় পড়ছেন এবং ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ফেরি চালু রাখলে এলাকাটি অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হতো।

প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা কমে যাওয়ায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ফেরি চলাচল ব্যাহত হয় তবে চলতি মৌসুমে আগাম পলি ভরাটের কারণে চ্যানেল সংকুচিত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বর্তমানে এই রুটে নিয়োজিত দুটি ফেরি কদম ও কুঞ্জলতা রৌমারী প্রান্তে পন্টুনের সঙ্গে চরে আটকে রয়েছে এবং কার্যকর ড্রেজিং না হওয়ায় ফেরিগুলোর যান্ত্রিক ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি বাড়ছে।

বিআইডাব্লিউটিসি সূত্রমতে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একাধিকবার ড্রেজিংয়ের জন্য চিঠি দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৪ সাল থেকে ফেরি চলাচলে বিড়ম্বনা শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২১৮ দিনের মধ্যে ফেরি চলেছে মাত্র ৬৮ দিন।

বিআইডাব্লিউটিসির চিলমারী ও রৌমারী অঞ্চলের সহকারী ব্যবস্থাপক নুরন্নবী সরকার জানান শুকনো মৌসুমে ড্রেজিং জোরদার করলে সারা বছর সার্ভিস সচল রাখা সম্ভব এবং এটি লাভজনক রুট হতে পারে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন নাব্যতা রক্ষায় পরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগের অভাব এবং সময়মতো ড্রেজিং না হওয়ায় প্রতিবছর এই সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

বিআইডাব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী সমির পাল জানিয়েছেন প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ড্রেজিং করে প্রায় ৪০ মিটার খনন করা হচ্ছে তবে আগামী এপ্রিল অথবা মে মাসের আগে ফেরি চালু করা সম্ভব নয়।

এম ম/ ২ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language