এশিয়া

রমজানের ভোরে লেবাননে ইসরায়েলি উচ্ছেদ নির্দেশ, আতঙ্কে লাখো মানুষ

বেইরুত, ২ মার্চ – রমজান মাসের পবিত্র ভোরে যখন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা সেহরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই লেবাননের সাধারণ মানুষের দিন শুরু হয় চরম আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আকস্মিক উচ্ছেদ নির্দেশের পর আজ সকালে লাখো মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে রাস্তায় নেমেছেন। এই ভীতিকর পরিস্থিতি কেবল দক্ষিণ লেবাননেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং রাজধানী বৈরুতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল বিশেষভাবে বৈরুতর দক্ষিণ শহরতলী দাহিয়েহ এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস।

প্রাণ বাঁচাতে বাসিন্দারা হাতের কাছে যা পাচ্ছেন, তা নিয়েই নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটছেন। কারও হাতে সামান্য সম্বল, কেউবা শিশু কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠ স্বজনদের নিয়ে অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে পা বাড়িয়েছেন। দাহিয়েহ এলাকাটি হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এখানে সংঘাতের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও লেবাননের অভিযোগ, ইসরায়েল একপাক্ষিকভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ পুনরায় অস্ত্র মজুত করছে এবং সরকার তাদের দমনে ব্যর্থ।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে তেহরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর জবাবে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা শুরু করে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, হামলার তীব্রতা প্রথমে বৈরুতে দেখা দিলেও পরে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইসরায়েলের ওপর হিজবুল্লাহর এই হামলাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সন্দেহজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, তার সরকার দেশের জনগণকে রক্ষায় এবং দুর্বৃত্তদের দমনে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। রমজানের সিয়াম সাধনার প্রস্তুতির পরিবর্তে এখন সাধারণ মানুষের মূল চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে শুধুই বেঁচে থাকার লড়াই।

এস এম/ ২ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language