রমজানে পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা সৈকত, ঈদের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা

কুয়াকাটা, ১ মার্চ – সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা এখন প্রায় পর্যটকশূন্য অবস্থায় রয়েছে। পবিত্র রমজান মাস চলায় সৈকতে নেই চিরচেনা কোলাহল বা ভিড়। সৈকতের ছাতা ও বেঞ্চগুলো ফাঁকা পড়ে আছে এবং পর্যটক না থাকায় অধিকাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা হয়েছে। হোটেল ও মোটেলের কক্ষগুলো খালি এবং পর্যটকবাহী স্পিডবোটগুলো সৈকতে সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে।
জনাকীর্ণ এই সৈকতে এখন বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। হাতেগোনা কিছু দোকানপাট সকালে খোলা হলেও ক্রেতার অভাবে সন্ধ্যার আগেই তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সৈকতের ফটোগ্রাফার ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী ও ফিশ ফ্রাই বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন। দর্শনার্থীদের আনাগোনা না থাকায় পুরো এলাকার পরিবেশ যেন নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় হোটেল ও মোটেল মালিকরা জানান রমজান উপলক্ষে অধিকাংশ কর্মচারীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কেউ কেউ আগেভাগেই হোটেল ধোয়ামোছা ও সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন। ব্যবসায়ীদের আশা ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটবে।
সৈকতের ফটোগ্রাফার রহমান জানান কিছুদিন আগেও সৈকত পর্যটকে পরিপূর্ণ ছিল কিন্তু রমজান শুরুর পর তা একেবারেই ফাঁকা হয়ে গেছে। অপর ফটোগ্রাফার মারুফ জানান রোজার মাসে পর্যটক না থাকায় তিনি সাময়িকভাবে পেশা পরিবর্তন করে জেলের কাজ করছেন। খাবার হোটেল ব্যবসায়ী আলম জানান রমজান মাসে তাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ থাকে এবং কর্মচারীদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে ঈদের পর পর্যটকের চাপ বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার বা টোয়াক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিরাজ জানান প্রতিবছরই রমজানে পর্যটকের সংখ্যা কমে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি তবে রোজার শেষদিকে ঈদের জন্য হোটেল ও মোটেলে অগ্রিম বুকিং শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পরিদর্শক মো. নাজমুল আহসান নিশ্চিত করেছেন যে পর্যটক কম থাকলেও বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে।
এস এম/ ১ মার্চ ২০২৬









