যমুনায় নাব্যতা সংকট: নৌপথ বন্ধ, চরাঞ্চলে একমাত্র ভরসা ঘোড়ার গাড়ি

বগুড়া, ১ মার্চ – শুষ্ক মৌসুমে বগুড়ার সারিয়াকান্দি অঞ্চলে যমুনা নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র নাব্যতা সংকট। পানির স্তর অস্বাভাবিক নিচে নেমে যাওয়ায় নদীর বুকে জেগে উঠেছে মাইলের পর মাইল বিস্তীর্ণ চর। এর ফলে সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নৌরুট কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় চরাঞ্চলের জনজীবন এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। কোথাও হাঁটুসমান আবার কোথাও গোড়ালি পর্যন্ত পানিতে ঠেকেছে যমুনা।
গত কয়েক মাস ধরে পানি কমতে থাকায় দুর্গম চরাঞ্চলে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘোড়ার গাড়ি। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে তারা চরের জমিতে বাদাম, ভুট্টা, মসুর ডাল, বোরো ধান, মিষ্টি আলু, মরিচ ও পেঁয়াজ চাষ করেন। কিন্তু নৌপথ বন্ধ থাকায় এবং সড়ক যোগাযোগ না থাকায় উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। মাত্র তিন কিলোমিটার পথে এক বস্তা পণ্য পরিবহনে ঘোড়ার গাড়িকে দিতে হচ্ছে ১২০ টাকা।
এরপর নদীতীর থেকে আবার অটোরিকশায় বাজারে নিতে হয়, যার ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং কৃষকের লভ্যাংশ কমে আসছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বালুচরের বুকে সারি সারি ঘোড়ার গাড়ি কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছে। জমিতে সার ও কীটনাশক পৌঁছাতেও এই বাহনই ব্যবহার করতে হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, চলতি রবি মৌসুমে চরাঞ্চলে প্রায় হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদিত হয়েছে, যা পরিবহনের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।
নাব্যতা সংকটের কারণে আলতাফ আলীর খেয়াঘাট, হাসনাপাড়া, নিজবলাইসহ বেশ কয়েকটি খেয়াঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস জানান, চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচিত হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। অন্যদিকে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রণালয়ে ড্রেজিংয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত খনন কাজ শুরু করা হবে।
এস এম/ ১ মার্চ ২০২৬









