রমজানে সাহরি গ্রহণ: ফজিলত সময়কাল ও সুন্নাত প্রসঙ্গ

চট্টগ্রাম, ১ মার্চ – অতীব মর্যাদাপূর্ণ মাস হলো রমজানুল মোবারক যা হিজরি সনের দ্বিতীয় বর্ষের শাবান মাসে ফরজ করা হয়েছিল।
রমজান আল্লাহ তাআলার অবারিত রহমত ও মাগফিরাত লাভের মাস এবং এই মাসের রোজা আত্মার পরিশুদ্ধি ও প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণে শক্তি সঞ্চার করে। এই মাসেই পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে এবং মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা করা প্রত্যেক মুসলমান নর নারীর ওপর ফরজ।
রমজানের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে মুসলিম সমাজের ঘরে ঘরে তারাবির নামাজ ও শেষ রাতের সাহরির প্রস্তুতিসহ নানা আয়োজনে সাড়া জেগে ওঠে। সাহরি শব্দটি আরবি যা সাহর বা সুহুর থেকে উদ্ভূত এবং এর আভিধানিক অর্থ রাতের শেষাংশ বা ভোররাত। ইসলামের পরিভাষায় সিয়াম পালন করার উদ্দেশ্যে শেষ রাতে পানাহার করাকে সাহরি বলা হয় এবং রোজাদারের জন্য সাহরি খাওয়া সুন্নাত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহরি খাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন কারণ এতে বরকত রয়েছে এবং এটি মুসলিমদের রোজাকে অন্যদের রোজা থেকে পৃথক করে। সাহরি খাওয়ার সময় নিয়ে আলেমদের মধ্যে আলোচনা থাকলেও সাধারণত রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বা সুবহে সাদেকের পূর্ব পর্যন্ত সময়কে উত্তম মনে করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ সময়ে সাহরি গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন যা রোজাদারের জন্য শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করে।
যারা সাহরি গ্রহণ করেন তাদের ওপর আল্লাহর বিশেষ রহমত বর্ষিত হয় এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য দোয়া করতে থাকেন।
সাহরির সময় আরামের ঘুম বর্জন করে জাগ্রত হওয়া প্রকৃতপক্ষে ইবাদত ও আনুগত্যের প্রতি অনুরাগী হওয়াকে নির্দেশ করে। এই সময়ে জাগ্রত হওয়ার মাধ্যমে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ তৈরি হয় যা মুমিন বান্দার জন্য এক বড় পাওয়া।
রাতের শেষ অংশে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করার ঘোষণা দিয়েছেন তাই এই সময়টি ইবাদতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এম ম/ ১ মার্চ ২০২৬








