ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, ঘাতক চাচা গ্রেপ্তার

পাবনা, ১ মার্চ – পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় দাদি ও নাতনিকে হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এই জোড়া খুনের ঘটনায় শরিফুল ইসলাম শরীফ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই ব্যক্তি সম্পর্কে নিহত কিশোরীর চাচা। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। নিহতরা হলেন জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন এবং তার মেয়ে মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী জামিলা আক্তার।
তারা ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা। কাজের সূত্রে জয়নাল খাঁ বাড়ির বাইরে থাকায় তার মেয়ে জামিলা দাদির সঙ্গেই বসবাস করতেন। পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যমতে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শরীফ ওই বাড়িতে গিয়ে জামিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তখন কিশোরী বাধা দিয়ে তাকে চড় মারেন। অপমানিত হয়ে ফিরে যাওয়ার কয়েকদিন পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি আবার ওই বাড়িতে যান এবং দাদি সুফিয়া খাতুনের কাছে পূর্বের ঘটনার জন্য ক্ষমা চান।
তবে সুফিয়া খাতুন তাকে ক্ষমা না করে উল্টো জোরে চিৎকার শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শরীফ পাশে থাকা একটি কাঠের বাটাম দিয়ে বৃদ্ধার মাথায় আঘাত করেন। দাদি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জামিলা চিৎকার শুরু করেন। তখন শরীফ একটি রাজমিস্ত্রির সরঞ্জাম দিয়ে কিশোরীর মাথায় আঘাত করেন এবং তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশের সরিষাক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের পর গলা টিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে তিনি পালিয়ে যান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের এবং সরিষাক্ষেতে জামিলার মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
পরে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ শনিবার রাতে শরিফুলকে আটক করে। গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আসামি অপরাধের ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছেন। এই ঘটনায় নিহত কিশোরীর বোন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এসএএস/ ১ মার্চ ২০২৬









