ইসরায়েলে ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তিন ফ্রন্ট থেকে আক্রমণ

তেহরান, ১ মার্চ – ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন সর্বাত্মক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে ইরান নজিরবিহীন পাল্টা আঘাত হেনেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি ইসরায়েল অভিমুখে অন্তত ৭০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে। এই হামলার পরপরই ইসরায়েলজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
জেরুজালেম, হাইফা ও শেফেলাসহ প্রধান শহরগুলোতে সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের দ্রুত বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আইডিএফ। ইসরায়েলি বিমান বাহিনী আকাশপথের হুমকি মোকাবিলার পাশাপাশি হামলার উৎসস্থলে পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ইসরায়েলের ওপর এই আক্রমণ কেবল ইরান থেকেই নয় বরং তিনটি ভিন্ন ফ্রন্ট থেকে পরিচালিত হচ্ছে। একদিকে ইরান থেকে ধেয়ে আসছে ক্ষেপণাস্ত্র, অন্যদিকে লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেন থেকে হুথি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। হুথিরা লোহিত সাগরে এবং সরাসরি ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে।
লেবানন সীমান্ত থেকেও হিজবুল্লাহর আক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই সংঘাতের জেরে দেশটিকে যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের এই প্রতিশোধমূলক অভিযানের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ইরান বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিট সদর দপ্তরসহ কুয়েত, কাতার, জর্দান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
দুবাই ও মানামাসহ বেশ কিছু শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা খালি করার খবরও পাওয়া গেছে। চরম উত্তেজনার মুখে এখন সবার নজর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহু ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করলেও অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ফাঁকা জায়গায় আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন ইসরায়েলের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ এই যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।
এস এম/ ১ মার্চ ২০২৬









