কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত

কুয়েত শহর, ২৮ ফেব্রুয়ারি – পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে তেহরান। এর অংশ হিসেবে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সরকারি বিবৃতিতে কুয়েতের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-রাজি জানিয়েছেন, হামলার পরপরই কর্তৃপক্ষ জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি নিরাপদ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একযোগে এই হামলা চালানো হয়।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিতেই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ শিক্ষার্থীর প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় ইরানে বড় ধরনের যুদ্ধাভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, বারবার চুক্তির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করতে এই অভিযান পরিচালনা করছেন।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব স্থান থেকে ইরানে হামলা চালানো হয়েছে, সেসব স্থাপনা এখন তাদের সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।
এনএন/ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









