রাজনৈতিক স্বস্তি ফিরলেও অর্থনীতিতে রূপান্তরের ঝুঁকি বিদ্যমান: অক্সফোর্ড ইকোনমিকস

ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি – অক্সফোর্ড ইকোনমিকস তাদের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে গত আগস্টের পর থেকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘রাজনৈতিক স্বস্তি ফিরলেও রূপান্তরের ঝুঁকি এখনো আছে’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক ঝুঁকি ০.৪ পয়েন্ট বেড়ে ৭.১-এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের গড় ঝুঁকি স্কোর ৫.১।
বৈশ্বিক ঝুঁকি সূচকে ১৬৪টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১৪১তম। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমালেও ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগ আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসতে সময় প্রয়োজন। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস পাঁচটি প্রধান সূচকের ওপর ভিত্তি করে এই ঝুঁকি নিরূপণ করে। এর মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাণিজ্যঋণ খাত, যার ঝুঁকি স্কোর সর্বোচ্চ ১০। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে বিপুল খেলাপি ঋণ, দুর্বল তদারকি এবং তথ্যের অপ্রতুলতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চ সুদের হার ও খেলাপি ঋণের চাপে বাজার ব্যয় সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৮ এবং বাজার চাহিদায় ৭। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স প্রবাহের অনিশ্চয়তা বাজার চাহিদার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। মুদ্রা বিনিময় হারের ক্ষেত্রে ঝুঁকি মাঝারি বা ৫ স্কোরে রয়েছে। আইএমএফ-এর কর্মসূচির আওতায় সংস্কার চলমান থাকলে মধ্যমেয়াদে স্থিতিশীলতা ফেরার আশা করা হচ্ছে। তবে ব্যবসায়িক শ্লথগতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪.৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৫.৭ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রিজার্ভ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। রপ্তানি খাতে, বিশেষ করে তৈরি পোশাকে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে চাহিদা কমে যাওয়ায় রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে যে রিজার্ভ রয়েছে, তা দিয়ে মাত্র চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
এস এম/ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









