সচেতনতা

রোজা রাখলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসে ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা কী?

রোজা রাখার ফলে মানবদেহে নানামুখী ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং শরীরের ভেতর থেকে একাধিক পরিবর্তন সাধিত হয়। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি রোজার রয়েছে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা।

এর মধ্যে অন্যতম হলো এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ কমিয়ে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন। এছাড়া এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে কাজ করে।

রোজা প্রাকৃতিক ডিটক্স হিসেবে কাজ করে যা পাচনতন্ত্রকে বিশ্রাম ও মেরামতের সুযোগ দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে যে রোজা রাখার ফলে শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড হ্রাস পায় এবং ভালো কোলেস্টেরল স্থিতিশীল থাকে। এর ফলে স্ট্রোক ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। ওজন ব্যবস্থাপনা এবং বিপাক ক্রিয়ার উন্নতিতেও রোজার ভূমিকা অপরিসীম। এটি শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে এবং সঞ্চিত চর্বিকে শক্তিতে রূপান্তর করতে উৎসাহিত করে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাদের জন্য এটি একটি কার্যকর উপায়।

এছাড়া রক্তে শর্করার স্পাইক কমিয়ে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করার মাধ্যমে এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে পাচনতন্ত্র বিশ্রাম পায় এবং শরীর কোষ মেরামত, বিষমুক্তকরণ ও প্রদাহ কমানোর কাজে মনোনিবেশ করতে পারে।

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতেও রোজার প্রভাব রয়েছে। এটি বিডিএনএফ বা মস্তিষ্ক থেকে প্রাপ্ত নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টরের মাত্রা বৃদ্ধি করে যা মানসিক স্বচ্ছতা ও প্রশান্তি আনে।

পাশাপাশি অটোফ্যাজি বা কোষীয় মেরামত প্রক্রিয়া উদ্দীপিত হওয়ার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।

তাই কেবল রমজান মাসেই নয়, সুস্থতার জন্য বছরের অন্যান্য সময়েও রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

এনএন/ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language