সুন্দরবনে আগুন রোধে কঠোর সতর্কতা, দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

সুন্দরবন, ২৭ ফেব্রুয়ারি – বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে এবার নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বন বিভাগ। প্রথমবারের মতো আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালসহ সকল বনজীবীর জন্য বিড়ি, সিগারেট বা অন্য যেকোনো দাহ্য পদার্থ নিয়ে বনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সুন্দরবন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে যে গত ২৩ বছরে শুষ্ক মৌসুমে বনের ভেতরে অন্তত ২৭ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে যাতে শতাধিক একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি বনরক্ষীদের নজর এড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে বনে আগুন দেয় বিশেষ করে মিঠা পানির বিলগুলোতে মাছ ধরার পথ তৈরির জন্য। এছাড়া মৌয়ালদের ব্যবহৃত মশাল থেকেও অসাবধানতাবশত আগুন লাগার নজির রয়েছে। এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবার কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা, উত্তর ও দক্ষিণ রাজাপুর এবং মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ, পোস্টার সাঁটানো এবং মাইকিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থানীয় বনজীবী রফিকুল ইসলাম ও কবির হোসেনরা বন বিভাগের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে বন বাঁচলে তাদের জীবিকা বাঁচবে। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে কোনোভাবেই বনের ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এস এম/ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









