চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু

চাঁদপুর, ২৭ ফেব্রুয়ারি – জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মার্চ এবং এপ্রিল এই দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। এই সময়ে নদীতে মাছ আহরণ, ক্রয় বিক্রয়, পরিবহন ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকাকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জেলার প্রায় ৪৭ হাজার নিবন্ধিত জেলে নদীতে নামতে পারবেন না। কর্মহীন জেলেদের সহায়তার জন্য ৩৯ হাজার ৪০০ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। তারা ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে মোট ১২০ কেজি চাল পাবেন। তবে জেলেদের দাবি, বরাদ্দকৃত চাল তাদের সংসারের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া জেলে পল্লীর জাহাঙ্গীর হোসেন শেখ ও আক্কাছ মাঝির মতো জেলের মতে, মাছ ধরাই তাদের একমাত্র জীবিকা। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন তারা জাল ও নৌকা ডাঙ্গায় তুলে রাখেন, কিন্তু শুধু চাল দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
সন্তানদের পড়াশোনা ও ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য তাদের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন বলে তারা জানান। চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক জানান, জাটকা রক্ষায় জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নৌ পুলিশের টহল জোরদার থাকবে এবং কেউ আইন অমান্য করলে মৎস্য আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা প্রশাসক ও জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলাম সরকার এবং ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান উভয়েই ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জাটকা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এস এম/ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









