দক্ষিণ এশিয়া

সীমান্তে উত্তেজনার পারদ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সামরিক শক্তির তুলনামূলক চিত্র

পাকিস্তান, ২৭ ফেব্রুয়ারি – পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্তে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে। কয়েক মাসের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের জেরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ‘খোলা যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক শক্তি আফগানিস্তানের তুলনায় ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীতে ৬ লাখ ৬০ হাজার সক্রিয় কর্মী রয়েছে, যার মধ্যে সেনাবাহিনীতে ৫ লাখ ৬০ হাজার, বিমানবাহিনীতে ৭০ হাজার এবং নৌবাহিনীতে ৩০ হাজার সদস্য কর্মরত।

অন্যদিকে আফগান তালেবানদের সামরিক বাহিনীর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা মাত্র ১ লাখ ৭২ হাজার, যদিও তারা এটি দুই লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে। সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের কাছে ৬ হাজারের বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান এবং ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি কামান রয়েছে।

বিপরীতে আফগান বাহিনীর কাছে সোভিয়েত আমলের কিছু ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান থাকলেও সেগুলোর সঠিক সংখ্যা বা কার্যকারিতা নিশ্চিত নয়। আকাশপথে পাকিস্তানের আধিপত্য স্পষ্ট; তাদের বহরে ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান ও ২৬০টির বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে।

আফগানিস্তানের কার্যত কোনো বিমানবাহিনী নেই এবং তাদের হাতে থাকা গুটিকয়েক বিমান ও হেলিকপ্টারের উড্ডয়ন ক্ষমতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং তাদের ১৭০টি ওয়ারহেড রয়েছে, যেখানে আফগানিস্তানের কোনো পারমাণবিক সক্ষমতা নেই।

ইসলামাবাদ চীনের সহায়তায় তাদের সামরিক আধুনিকায়ন অব্যাহত রেখেছে, যখন তালেবানরা ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের সময় জব্দ করা বিদেশি সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে।

এম ম/ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language