পাকিস্তানে হামলা চালিয়ে আফগানিস্তান ‘মারাত্মক ভুল’ করেছে

ইসলামাবাদ, ২৭ ফেব্রুয়ারি – গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার-পাখতুনখোয়া–এর ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাকিস্তানি সেনাচৌকির ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আফগানিস্তান ‘মারাত্মক ভুল’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, “রাতের অন্ধকারে ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে কাপুরুষোচিত হামলা করা আফগানিস্তানের জন্য মারাত্মক ভুল। এটি একটি ঘৃণ্য পদক্ষেপ ছিল এবং এজন্য তাদের গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে। গোটা দেশ পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কখনও আপোস করব না।”
আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের মদতপুষ্ট নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নির্মূলের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে সংক্ষিপ্ত বিমান অভিযান চালায়। অভিযানে দুই প্রদেশে ৮০-এর বেশি মানুষ নিহত হন।
হামলার পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তঃসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, নিহতরা সবাই টিটিপির যোদ্ধা। তবে আফগান তালেবান সরকার এই তথ্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, পাকিস্তানের বিমান বাহিনী লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে, জঙ্গিঘাঁটি নয়। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, “এর বদলা নেওয়া হবে।”
গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আফগান সেনারা ডুরান্ড লাইনে পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সেই ‘বদলা’ নেয়। আফগান সংবাদমাধ্যম তুলো নিউজ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান ফাসিহুদ্দিন ফিৎরাত–এর নির্দেশে রাত ১২টা পর্যন্ত ডুরান্ড লাইনে অভিযান চালায় আফগান সেনারা। হামলায় কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন এবং আরও কিছু সেনাকে বন্দি করে নেওয়া হয়।
ডুরান্ড লাইনে হামলার সময়ে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে লিখেছিলেন, “আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এবার ওদের (পাকিস্তানি সেনাবাহিনী) আমরা নরকে পাঠাব।”
ডুরান্ড লাইনে হামলার মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযান শুরু করে। অভিযান শুরুর পর এক্সবার্তায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, “আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের কেবল যুদ্ধ হবে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সাগর থেকে ভেসে আসেনি। আমরা আপনাদের প্রতিবেশী: আপনাদের গতিবিধি আমরা খুব ভালোভাবে জানি।”
শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ–এর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানান, পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ)-এর বোমাবর্ষণে কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে আফগান সেনাবাহিনীর দু’টি সেনা হেডকোয়ার্টার, ৩টি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, ৩টি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, ২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুল সংখ্যক আর্টিলারি বন্দুক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।
মোশাররফ জাইদি আরও জানিয়েছেন, একই তিন প্রদেশে পাকিস্তানি সেনারা ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস এবং ৯টি সেনাচৌকি দখল করেছে।
এনএন/ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









