অভিবাসন পথে ২০২৫ সালে নিহত ৭৬৬৭, নিরাপদ পথের আহ্বান জাতিসংঘের

নিউ ইয়র্ক , ২৬ ফেব্রুয়ারি – বিশ্বজুড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য গত বছরটি ছিল অত্যন্ত প্রাণঘাতী। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা বা আইওএম জানিয়েছে, ২০২৫ সালে অভিবাসনের পথে অন্তত ৭ হাজার ৬৬৭ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। তবে প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
আইওএম-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালে এই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৯ হাজার ২০০ জন। সে তুলনায় ২০২৫ সালে সংখ্যাটি কিছুটা কমলেও, বিষয়টিকে বৈশ্বিক সংকটের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছে সংস্থাটি।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অভিবাসন পথে এমন ধারাবাহিক প্রাণহানি একটি বৈশ্বিক ব্যর্থতা, যা কোনোভাবেই স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না। তিনি এই মৃত্যু ঠেকাতে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ তৈরির ওপর জোর দেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া এখনো অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রুট। ২০২৫ সালে এই পথে অন্তত ২ হাজার ১০৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৭ জন।
এদিকে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেও ভূমধ্যসাগরে উদ্বেগজনক সংখ্যক অভিবাসীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬০৬ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যদিও ইতালিতে অভিবাসীদের আগমনের হার আগের চেয়ে কমেছে।
গত দুই সপ্তাহে দক্ষিণ ইতালি ও লিবিয়া উপকূলে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইওএম।
তবে আমেরিকা অঞ্চলে বিপজ্জনক পথে যাত্রা করার প্রবণতা কিছুটা কমায় সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত এবং কলম্বিয়া ও পানামার মধ্যবর্তী দুর্গম দারিয়েন জঙ্গল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা কমেছে।
২০১৪ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর আমেরিকা অঞ্চলে ২০২৫ সালেই সবচেয়ে কম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন পথ নিশ্চিত করা না গেলে এই মানবিক সংকট কাটানো কঠিন হবে।
এনএন/ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









