জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ৩ ঘণ্টার বৈঠক, পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা

জেনেভা, ২৬ ফেব্রুয়ারি – সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় দফায় আলোচনায় বসে দুই দেশ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে যে উভয় পক্ষ একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, তবে তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় চুক্তির কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার দিনের শেষে দুই দেশের মধ্যে আবারও আলোচনা হবে।
এক্সিওস আরও উল্লেখ করেছে যে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে এই আলোচনাই হতে পারে কূটনীতির শেষ সুযোগ।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত স্টিভ উইটকোফ ও জের্ড ক্রুসনার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যে বার্তা দেবেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বার্তার ওপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
গত মঙ্গলবার ট্রাম্প স্টেট অব ইউনিয়নের বক্তব্যে জানিয়েছিলেন যে ইরানের সঙ্গে তারা কূটনৈতিক সমাধান চান, তবে ইরান তাদের শর্ত অনুযায়ী চুক্তি না করলে তিনি সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
বৃহস্পতিবারের আলোচনা দুইভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একাংশে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল-বুসাইদির মাধ্যমে নিজেদের বার্তা আদান প্রদান করেছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এবং অপর অংশে তারা সরাসরি কথা বলেছেন। আলোচনায় ওমানের মন্ত্রীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার বা আইএইএ এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনায় ইরান নিজেদের তৈরি চুক্তির খসড়া উপস্থাপন করেছে।
এক্সিওস জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র শর্ত দিচ্ছে যে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে চুক্তিই করুক না কেন সেটি অনির্দিষ্টকালের জন্য সক্রিয় থাকতে হবে। তাদের আরেকটি প্রধান শর্ত হলো ইরানকে তাদের দশ হাজার কেজি সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ছেড়ে দিতে হবে।
তবে ইরানকে তারা শর্তসাপেক্ষে কিছু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করতে দেবে, কিন্তু ইরানকে প্রমাণ করতে হবে যে এগুলো দিয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি করা হবে না।
এনএন/ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









