বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি: ইউজিসি ও দুদকের তদন্তে ভয়াবহ চিত্র

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি – শিক্ষার মান উন্নয়ন ও যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনুমোদন দেওয়া হলেও দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অর্থ আয়ের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের তোয়াক্কা না করে ব্যক্তিগত অফিসের মতো পরিচালনার কারণে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে। চট্টগ্রামের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে সনদ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে গত বছরের মে মাসে প্রশাসক নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল নিয়মবহির্ভূতভাবে উপাচার্য অধ্যাপক মোজাম্মেল হককে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে শরীফ আশরাফুজ্জামানকে বসানো হয়, যার বিরুদ্ধেও সনদ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চলার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পায়। শুধু সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি নয়, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি ও নর্দান ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধেও বড় ধরণের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটির ফান্ডের প্রায় ৩৪৩ কোটি টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে ফাউন্ডেশনে স্থানান্তর এবং ১০২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে নর্দান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অনুসন্ধান করছে দুদক। ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, দেশের ২০ থেকে ৩০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও তহবিল তছরুপের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসক নিয়োগের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এছাড়া স্থায়ী ক্যাম্পাসে না যাওয়া এবং অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির কারণে বরিশালের গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন। শিক্ষার নামে বাণিজ্যেরোধে এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসএএস/ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









