ইরান যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে ট্রাম্পের দাবি

ওয়াশিংটন, ২৫ ফেব্রুয়ারি – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেছেন যে ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়ন করছে যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে গত বছর মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় সচল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন।
বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষপাতী হলেও আলোচনা ব্যর্থ হলে শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত রয়েছেন।
স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প বলেন, তারা ইতিমধ্যে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে যা ইউরোপ ও আমাদের বিদেশি ঘাঁটিগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এবং তারা এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কাজ করছে যা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারবে। তবে বুধবার ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে বড় মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমায়েল বাঘাই বুধবার সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করেই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং জানুয়ারির অস্থিরতায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে তারা যা অভিযোগ করছে তা কেবল বড় মিথ্যার পুনরাবৃত্তি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি জানিয়েছিল যে তেহরান যদি সক্ষমতা অর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় তবে ২০৩৫ সালের মধ্যে তারা সামরিকভাবে কার্যকর আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন করতে পারে। তবে তারা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না তা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী তেহরানের কাছে বর্তমানে স্বল্প ও মধ্যপাল্লার যেসব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে তার সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ১,৮৫০ মাইল।
অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ইরানের পশ্চিম প্রান্ত থেকে ছয় হাজার মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত। ওয়াশিংটন ও তেহরান ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে ইতিমধ্যে দুই দফা আলোচনা সম্পন্ন করেছে যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বাতিল করা চুক্তির পরিবর্তে কার্যকর হবে।
এ এম/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









