এশিয়া

মরুভূমির বালুকে ১০ মাসেই উর্বর মাটিতে রূপান্তরের চীনা প্রযুক্তি

বেইজিং, ২৫ ফেব্রুয়ারি – মরুভূমি মানেই ধু ধু বালু আর প্রাণের অস্তিত্বহীন প্রান্তর, এমন চিরাচরিত ধারণা বদলে দিতে চলেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা এমন এক অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে মাত্র ১০ থেকে ১৬ মাসের মধ্যেই আলগা বালুকে উর্বর মাটিতে রূপান্তর করা সম্ভব হচ্ছে।

চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাকলামাকান মরুভূমি সংলগ্ন এলাকায় এই বিশেষ গবেষণাটি চালানো হয়েছে। সয়েল বায়োলজি অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি নামক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে এই গবেষণার বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এই যুগান্তকারী কাজটি সম্পন্ন করেছেন চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের একদল গবেষক। বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে তৈরি বিশেষ এক ধরনের অণুজীব বা সায়ানোব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করেছেন এই প্রক্রিয়ায়। এই অণুজীব প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিল এবং অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকতে সক্ষম।

এই অণুজীব বালুর ওপর একটি কালো রঙের জৈব আস্তরণ তৈরি করে, যা বালুর কণাগুলোকে আঠার মতো একে অপরের সঙ্গে আটকে রাখে। এর ফলে বালু শক্ত হয়ে মাটির বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং সেখানে গাছের শিকড় সহজেই গজাতে পারে। এই নতুন প্রযুক্তির আরেকটি বড় সুবিধা হলো, এটি বালুর পানি ধরে রাখার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। সাধারণ বালুতে পানি দ্রুত শুকিয়ে গেলেও এই প্রক্রিয়ায় তৈরি মাটিতে আর্দ্রতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

আস্তরণটি কালো রঙের হওয়ায় পানি বাষ্পীভূত হওয়ার হার কমে যায়, যা চারাগাছ বাঁচিয়ে রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া এই অণুজীব বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে মাটিতে জমা করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম বছরেই মাটির ওপরের স্তরে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস জমা হয়েছে। এই জৈব স্তর ব্যবহারে বাতাসে মাটি উড়ে যাওয়ার হার ৯০ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় মরু এলাকায় ধূলিঝড় কমারও ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে এই আবিষ্কার মরুভূমিকে ধীরে ধীরে সবুজে ভরিয়ে তোলার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

এস এম/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language