সৌদি আরব

বাংলাদেশসহ ৪০ দেশের মুরগি ও ডিম আমদানিতে সৌদির নিষেধাজ্ঞা

রিয়াদ, ২৫ ফেব্রুয়ারি – বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন প্রাণিবাহিত রোগের ঝুঁকি এড়াতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ বা এসডিএফএ বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ৪০টি দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর পাশাপাশি আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট কিছু প্রদেশ ও শহরের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এসডিএফএ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি শুরু হলেও বিশ্বব্যাপী মহামারি ও প্রাণিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব পর্যবেক্ষণ করে সময়ের সঙ্গে তালিকায় নতুন দেশের নাম যুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার সাম্প্রতিক বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক পশু স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, বাংলাদেশ, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মায়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিশর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, ভারত, হংকং, জাপান, বুরকিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, আইভরি কোস্ট এবং মন্টিনিগ্রো। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মতো ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে আংশিক আমদানির সুযোগ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বজায় থাকবে। তবে প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা দেখিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসডিএফএ জানিয়েছে, যদি কোনো মুরগির মাংস বা সংশ্লিষ্ট পণ্য বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত তাপ চিকিৎসা বা বিশেষ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ভাইরাসমুক্ত করা হয়, তবে তা আমদানির অনুমতি পেতে পারে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি শংসাপত্র বাধ্যতামূলক, যা নিশ্চিত করবে যে পণ্যটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই নিষেধাজ্ঞার তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এসএএস/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language