রূপগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় কারখানায় হামলা ও লুটপাট, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা

নারায়ণগঞ্জ, ২৫ ফেব্রুয়ারি – নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় একটি রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানটির দুই কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন এবং সন্ত্রাসীরা নগদ অর্থসহ কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় ‘বিএলও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের কারখানায় ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে এ ঘটনা ঘটে। কারখানাটির মালিক শারীরিক প্রতিবন্ধী মনোয়ার হোসেন ওরফে অপুর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানিসহ ১২টি দেশে জিআই তার রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল কারখানার প্রধান ফটক ও সীমানাপ্রাচীর শাবল দিয়ে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা সিসিটিভি ক্যামেরা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং বাধা দিতে গেলে কারখানার ব্যবস্থাপক অলিউল্লাহ ও কর্মচারী জুলহাস উদ্দিনকে পিটিয়ে আহত করে। পরে ট্রাক এনে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা নগদ অর্থসহ প্রায় ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার পণ্য নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় কারখানার মালিক মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বেলায়েত আকনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই কাজল আকন, ভাতিজা নিশাত আকন এবং অনুসারী সজল হোসেনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, উপজেলা বিএনপি সভাপতি মাহফুজুর রহমানের নাম ব্যবহার করে আসামিরা ১০ লাখ টাকা এককালীন ও মাসিক ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।
হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলেও পুলিশ দুই ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশ প্রধান আসামি বেলায়েত আকনকে আটক করলেও রহস্যজনক কারণে পরে ছেড়ে দেয়। তবে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কারখানা মালিকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় নেই এবং চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি মিথ্যা। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মামুন মাহমুদ জানিয়েছেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএএস/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









