দক্ষিণ আমেরিকা

ব্রাজিলের মিনাস জেরাইসে টানা বৃষ্টি ও ভূমিধসে ২৩ জনের মৃত্যু, ৪০ জনের বেশি নিখোঁজ

ব্রাসিলিয়া, ২৫ ফেব্রুয়ারি – ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা ও ভূমিধস হয়ে অন্তত ২৩ জন মারা গেছেন। এই দুর্যোগ আঘাত হেনেছে মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জুইজ দে ফোরা শহরে, যেখানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সেখানে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা প্রশিক্ষিত উদ্ধার কুকুর নিয়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালান। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টির পর এখনো ৪০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী লিভিয়া রোসা বলেন, আমরা গত রাত (সোমবার) থেকেই এখানে আছি, কেউ মাটির নিচে জীবিত আছে কি না তা দেখার জন্য। তিনি জানান, তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য কাদার নিচে চাপা পড়ে আছেন। তিনি বলেন, আশাই এখন শেষ ভরসা।

দেশটির আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সামনে আরও কয়েক দিন বৃষ্টি চলতে পারে, এতে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা কাদা ও পলিতে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঢেকে গেছে। নদীর পানি স্বাভাবিক পথ ছেড়ে শহরের ভেতরে ঢুকে গেছে।

এই ঘটনায় অন্তত ৪৪০ জন মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কাছের শহর উবায় আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জুইজ দে ফোরার মেয়র মার্গারিদা সালোমাঁও বলেছেন, এলাকায় অন্তত ২০টি ভূমিধস হয়েছে এবং অনেক ঘরবাড়ি ধসে গেছে। তিনি বলেন, রাতে যখন বৃষ্টি হচ্ছিল তখন অনেক মানুষ ঘরের ভেতরেই ছিলেন।

উদ্ধার বাহিনীর কর্মকর্তা মেজর দেমেত্রিয়াস গুলার্ত জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা এক শিশুকে উদ্ধার করতে তাদের প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। তিনি বলেন, আমাদের এখনো আশা আছে।

মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের উদ্ধার বিভাগের অন্তত ১০৮ জন সদস্য জুইজ দে ফোরায় এবং ২৮ জন উবায় উদ্ধারকাজে কাজ করছেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা দুর্গতদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে বলেছেন, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, জরুরি সেবা আবার চালু করা, বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা দেওয়া এবং পুনর্গঠনে আমরা সর্বোচ্চ সহায়তা করব।

মেয়র সালোমাঁও আরও বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, মাত্র চার ঘণ্টায় ১৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা ছিল তীব্র, বিধ্বংসী ও একটানা। এটিকে তিনি তার দায়িত্বকালের সবচেয়ে দুঃখজনক দিন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আমরা এখনো জীবন রক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।

এনএন/ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language