ইংল্যান্ড–পাকিস্তান ম্যাচে সেমির সমীকরণ, হারলেই বিদায় পাকিস্তানের

ইসলামাবাদ, ২৪ ফেব্রুয়ারি – টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুটা একতরফা মনে হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতের বিপক্ষে ৭৬ রানের বড় জয় পাওয়ার পর টুর্নামেন্টের পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে। গ্রুপ পর্ব থেকেই অস্ট্রেলিয়া বিদায় নিয়েছে, যা বুঝিয়ে দিয়েছে কোনো দলই অপ্রতিরোধ্য নয়। তবে এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের পারফরম্যান্স পুরোপুরি ভরসা জাগাতে পারেনি।
ইংল্যান্ড শুরুতে নেপালের বিপক্ষে মাত্র ৪ রানে জেতে। এরপর তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারে, পরে স্কটল্যান্ড ও ইতালির বিপক্ষে চাপে পড়ে জয় পায়। পাকিস্তানও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে কষ্ট করে জিতেছে, ভারতের কাছে ৬১ রানে হেরেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়াকে হারিয়েছে।
সুপার এইটে পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। এতে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় তাদের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা এখন অনিশ্চিত হয়ে গেছে। ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে তাদের আশা বেঁচে থাকবে, কিন্তু হারলে পাকিস্তানের বিদায় নিশ্চিত হবে।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড সুপার এইটে শ্রীলঙ্কাকে ৫১ রানে হারিয়েছে। তবে ৯ উইকেটে ১৪৬ রানের সাধারণ সংগ্রহ রক্ষা করেই জিততে হয়েছে, যেখানে ফিল সল্টের হাফসেঞ্চুরি ছাড়া বড় কোনো ইনিংস ছিল না। পাকিস্তানকে এই ম্যাচে হারাতে পারলে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে ওঠা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
দুই দলের ওপেনাররাই চাপে আছেন। ইংল্যান্ডের জস বাটলার ও পাকিস্তানের সাইম আইয়ুব—এই টুর্নামেন্টে তাদের দুজনের মিলিয়ে রান মাত্র ১২৩। পাকিস্তানের অন্য ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ভালো ফর্মে আছেন, ২২০ রান করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তবে বাবর আজমের স্ট্রাইক রেট ১১৫.৭৮ হওয়ায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের বিপক্ষে বেশি রান দেওয়ার পর শাহীন শাহ আফ্রিদিকে একাদশের বাইরে রাখা হয়েছে।
ইংল্যান্ডের হয়ে উইল জ্যাকস তিন ম্যাচে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ হয়ে দলকে ভরসা দিয়েছেন। পাল্লেকেলে মাঠে সাম্প্রতিক চার ম্যাচে চার জয়ে তারা প্রায় ঘরের মাঠের মতো সুবিধা পাচ্ছে।
জস বাটলার পাঁচ ইনিংসে করেছেন মাত্র ৬০ রান। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক তার ওপর আস্থা রাখলেও বড় ম্যাচে তাকে রান করতেই হবে। পাকিস্তানের পেস আক্রমণে সালমান মির্জা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন, বিশেষ করে যদি স্পিন সহায়ক উইকেটে দল চার স্পিনার নিয়ে খেলে।
সম্ভাব্য একাদশ
ইংল্যান্ড: ফিল সল্ট, জস বাটলার (উইকেটরক্ষক), জ্যাকব বেথেল, টম ব্যান্টন, হ্যারি ব্রুক (অধিনায়ক), স্যাম কারান, উইল জ্যাকস, লিয়াম ডসন, জেমি ওভারটন, জোফরা আরচার, আদিল রশিদ।
পাকিস্তান: সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), বাবর আজম, ফাখর জামান, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নওয়াজ, ফাহিম আশরাফ, সালমান মির্জা, উসমান তারিক।
পিচ ও আবহাওয়া
ম্যাচটি নতুন উইকেটে হবে, যা ব্যাটিংয়ের জন্য তুলনামূলক ভালো হওয়ার কথা। আগের ম্যাচে উইকেট কিছুটা ধীর ছিল, তবে বড় ধরনের বৃষ্টি না থাকায় এবার রোদেলা আবহাওয়ায় ভালো ব্যাটিং কন্ডিশন পাওয়া যেতে পারে। তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনবারই জিতেছে ইংল্যান্ড। সর্বশেষ পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও ইংল্যান্ড পাকিস্তানকে হারিয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে উইল জ্যাকস তিনবার ম্যাচসেরা হয়েছেন।
ম্যাচের গুরুত্ব
ইংল্যান্ড জিতলে তাদের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে। পাকিস্তানের জন্য এটি বাঁচা-মরার ম্যাচের মতো। পাল্লেকেলেতে দ্রুত মানিয়ে নিতে না পারলে তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সব দিক মিলিয়ে একদিকে ঘরের মাঠের মতো আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে টিকে থাকার চাপ—এই দুই ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্যেই হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ।
এনএন/ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









