অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমাকে সরানোর ‘চক্রান্ত’ হয়েছে: রাষ্ট্রপতি

ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি – অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে নানা ধরনের চক্রান্তের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন যে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার তাকে অপসারণের চেষ্টা চালিয়েছিল। তিনি জানান যে তার বিদেশ সফর আটকে দেওয়া, কূটনৈতিক মিশন থেকে ছবি সরিয়ে ফেলা এবং বঙ্গভবনের প্রেস উইং বিলুপ্ত করার মতো ঘটনাও ঘটানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন যে তাকে অসাংবিধানিক উপায়ে সরানোর এবং দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টির অনেক পাঁয়তারা হয়েছিল কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন। তার মতে অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর অসংখ্য ছক ব্যর্থ হয়েছে এবং সেই দুঃসময়ে তিনি বিএনপির কাছ থেকে শতভাগ সমর্থন পেয়েছেন।
গত বছরের ২২ অক্টোবর বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন সেই রাতটি তার জন্য বিভীষিকাময় ছিল এবং আন্দোলনকারীরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের আশ্রয় নিয়েছিল। তবে সেনাবাহিনীর দৃঢ়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতির পদে বসানোর চক্রান্ত করা হয়েছিল কিন্তু ওই বিচারপতি রাজি না হওয়ায় তা সফল হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সংবিধান অনুযায়ী বিদেশ সফর শেষে তার সঙ্গে দেখা করতেন না বা কোনো সারসংক্ষেপ পাঠাতেন না। এমনকি কাতারের আমিরের আমন্ত্রণে একটি সামিটে যোগ দিতে চাইলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে ব্যস্ততার অজুহাতে বানোয়াট চিঠি দিয়ে আটকানো হয়েছিল। বিদেশের মিশনে রাষ্ট্রপতির ছবি নামিয়ে ফেলার ঘটনায় তিনি অপমানিত বোধ করেছিলেন বলে জানান। এছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জেরে তার প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তাদের অন্যায়ভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি জানান সশস্ত্র বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনের কারণেই তিনি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পেরেছেন।
এনএন/ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬









