স্কারবোরো সাউথওয়েস্টে উপনির্বাচনের হাওয়া: ডলি বেগমের দলত্যাগে নতুন মেরুকরণ, বাংলাদেশিদের দৌড়ঝাঁপ

স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট, ২৩ ফেব্রুয়ারি – কানাডার অন্টারিও প্রদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত ছক ভেঙে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি এখন প্রাদেশিক ও ফেডারেল রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সাত বছরের বেশি সময় ধরে এই জনপদের পরিচিত মুখ ডলি বেগম অন্টারিও এনডিপি ছেড়ে লিবারেল শিবিরে যোগ দিয়েছেন এবং প্রাদেশিক পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে ফেডারেল উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে এটি কেবল অন্টারিও নয় বরং জাতীয় রাজনীতিতেও একটি বড় বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে কারণ একই ভূগোলে একসঙ্গে দুটি উপনির্বাচনের বাস্তবতা দলগুলোর কৌশলকে নতুনভাবে সাজাতে বাধ্য করছে।
ডলি বেগমের পদত্যাগের পর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট প্রাদেশিক আসনে কে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। লিবারেল শিবিরে ফেডারেল এমপি নাথানিয়াল এরস্কিন স্মিথ মনোনয়ন দৌড়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সূত্রে আলী ডেমিরকান এবং কাদিরা জ্যাকসনের নাম আলোচনায় রয়েছে আর সিটি কাউন্সিলর পার্থি কান্ডাভেলের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যাচ্ছে প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ শিবিরে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির চারজন ব্যক্তি যথাক্রমে মহসীন ভূঁইয়া, ডা. নুরুল্লাহ তরুণ, মোর্শেদ নিজাম এবং গাজী সিজান এবার মনোনয়ন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। গত নির্বাচনে দল মনোনয়ন দিয়েছিল অ্যাড্ডি ড্যারামোলা নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে যিনি এবারও মনোনয়ন দৌড়ে থাকতে চান বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক বৈঠকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির প্রাদেশিক পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। দলীয় নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে এখানে কেন্দ্র থেকে কোনো প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হবে না। বরং স্থানীয় রাইডিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সদস্যরা মনোনয়ন সভা বা ভোটের মাধ্যমে যাকে বেছে নেবেন তাকেই চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। ফলে বাংলাদেশি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জন্য সুযোগটি বাস্তব হয়ে দেখা দিয়েছে কারণ এই দৌড়ে দলীয় সদস্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় সদস্যদের সমর্থন বড় ভূমিকা রাখবে। স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট প্রাদেশিক আসনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার থেকে ৮২ হাজারের মধ্যে এবং বিগত নির্বাচনগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিজয়ী হতে হলে কমপক্ষে ১৪ থেকে ১৭ হাজার ভোটের প্রয়োজন হয়। ২০১৮ সালে ডলি বেগম যখন প্রথম নির্বাচিত হন তখন তিনি ছিলেন পরিবর্তনের প্রতীক।
এরপর ২০২২ এবং ২০২৫ সালের নির্বাচনে তাঁর ধারাবাহিক জয় প্রমাণ করেছে যে এই এলাকায় ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও মাঠের কাজ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালের অন্টারিও নির্বাচনে এই আসনে এনডিপি প্রার্থী হিসেবে ডলি বেগম ১৪,৫৫৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন যেখানে প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ প্রার্থী ১০,৪০০ ভোট এবং লিবারেল প্রার্থী ৭,৭৮৬ ভোট পেয়েছিলেন। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার ২০২১ সালের জনগণনায় এই এলাকায় বাংলা ভাষাভাষী জনসংখ্যা ৭,৯৮০ জন দেখানো হয়েছে। যদিও জনসংখ্যা আর ভোটার সংখ্যা এক নয় তবুও কমিউনিটির নেটওয়ার্ক ও সামাজিক সম্পর্কের ঘনত্বের কারণে নির্বাচনের দিনে কয়েক হাজার ভোট একটি নির্দিষ্ট দিকে গেলে তার প্রভাব বড় হতে পারে। অন্টারিওর এই পুনর্নির্বাচন কেবল একটি আসন দখলের লড়াই নয় বরং এটি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের সক্ষমতা প্রমাণের এক অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।









