ইসলাম

রোজাদারকে ইফতার করানোর গুরুত্ব ও অপরিসীম ফজিলত

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি – রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে এবং এ মাসে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। শুধুমাত্র নিজের ব্যক্তিগত ইবাদতে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যের ইবাদতে সহযোগিতা করাও রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানো এমনই এক মহৎ আমল যা স্বল্প সামর্থ্যেও অসীম সওয়াবের সুযোগ করে দেয়। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছেন যা সুরা মায়িদার ২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে।

রোজাদারকে ইফতার করানো এই সহযোগিতারই একটি বাস্তব উদাহরণ। একজন মুমিন সারাদিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করেন এবং তাকে সামান্য খাবার দিয়ে সহায়তা করা মানে তার আমলের অংশীদার হওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতার করানোর ফজিলত সম্পর্কে বলেছেন যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে সে তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কোনো অংশ কমানো হবে না। হাদিসটি জামি আত তিরমিজি ও সুনান ইবনে মাজাহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। একটি খেজুর বা এক গ্লাস পানি দিয়েও একজন মুমিন রোজার সমপরিমাণ সওয়াব পেতে পারেন।

পবিত্র কোরআনের সুরা আল ইনসানে নেককারদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে ক্ষুধার্ত ও অভাবীদের আহার করানোর কথা বলা হয়েছে। রমজানে দরিদ্র ও অভাবী রোজাদারদের ইফতার করানো এই আয়াতের বাস্তব প্রয়োগ। এতে একদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট লাঘব হয় এবং অন্যদিকে দাতার অন্তরে তাকওয়া ও মানবিকতা বৃদ্ধি পায়। ইফতার আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি করে। তবে ইফতার যেন প্রদর্শন বা অপচয়ের মাধ্যম না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। আল্লাহ তাআলা অপচয়কারীদের শয়তানের ভাই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাই আড়ম্বর পরিহার করে আন্তরিকতা ও ইখলাসের সঙ্গে ইফতার করানোই প্রকৃত সওয়াবের কারণ।

এস এম/ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language